এই কমছে এই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম
কিছুতেই কমছে না পেঁয়াজের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম গত ৩০ দিনে বারবার ওঠানামা করেছে। যদিও নামার চেয়ে ওঠার গতিই বেশি। দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এবার পেঁয়াজের দাম ভেঙেছে অতীতের সব রেকর্ড।
বর্তমানে জেলার খুচরা বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। আর খাতুনগঞ্জে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। এ অবস্থায় পেঁয়াজের দামের কারসাজিতে জড়িত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১৩ জনসহ অন্যদের ওপর বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও অভিযান জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ভারত সরকার গত ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। এরপর থেকে বাজারে শুরু হয় অস্থিরতা। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দাম পার করে সেঞ্চুরি। দাম ঠেকে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
পরবর্তী সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম। অভিযানের পর দাম কমে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬৫ থেকে ৮০ টাকায়। এরপর মিয়ানমার, তুরস্ক, মিসর ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এতে কিছুদিন দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সংকট দেখিয়ে আবারও বাড়ে দাম। তখন প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম দাঁড়ায় ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।
এর পরের সপ্তাহে দাম কমে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় পৌঁছে। মোটামুটি এক সপ্তাহ এই দামেই বিক্রি হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি আবারও দাম বেড়ে পার করে সেঞ্চুরি। কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে আসে। তবে চলতি সপ্তাহে দাম বেড়ে একেবারে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ১৩০ টাকায়।
বুধবার খাতুনগঞ্জে ভারতের নাসিক অঞ্চলের পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়, সাউথ অঞ্চলের ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১০৮ টাকায়। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন সমকালকে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করার বেশকিছু প্রমাণ আমরা পেয়েছি। পেঁয়াজের বাজার যাতে কেউ অস্থির করতে না পারে সেজন্য কারসাজিতে জড়িতদের নজরদারিতে রেখেছে জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা। প্রয়োজনে জোরদার করা হবে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম। তবে চট্টগ্রামের যে আট ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করেন, তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আমদানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমে আসবে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জের আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক। তারা খাতুনগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে কমিশনে পেঁয়াজ না দিয়ে স্থলবন্দরগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছেন। এ জন্য স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে।
পেঁয়াজের এমন দামে উদ্বেগ জানিয়ে ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোকে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি করা ব্যবসায়ীদের সার্বিক বিষয় মনিটর করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনিয়মে জড়িতদের জরিমানার পাশাপাশি আমরা সতর্ক করেছি। তবে পরবর্তী সময়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মোটা অংকের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোপাল বাণিজ্য ভাণ্ডারের বলাই কুমার পোদ্দার বলেন, ভারতের নাসিক ও সাউথ অঞ্চলই এখানকার পেঁয়াজের জোগান দেয়। কিন্তু এই দুই এলাকা থেকে প্রতিদিন হাতেগোনা মাত্র কয়েক ট্রাক পেঁয়াজ বাজারে আসছে। আমদানি স্বাভাবিক না হলে দাম কমবে না।
এদিকে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে খাদ্য তালিকা থেকে পেঁয়াজ বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় 'পেঁয়াজ ন খাইয়্যুম; পেঁয়াজ ন কিন্নুম' (পেঁয়াজ খাব না; কিনবও না) শীর্ষক ব্যতিক্রমী গণপ্রচারণা চালিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন। সাধারণ মানুষকে নিয়ে ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারপত্রও বিতরণ করেন তিনি।
বর্তমানে জেলার খুচরা বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। আর খাতুনগঞ্জে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। এ অবস্থায় পেঁয়াজের দামের কারসাজিতে জড়িত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১৩ জনসহ অন্যদের ওপর বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও অভিযান জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ভারত সরকার গত ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। এরপর থেকে বাজারে শুরু হয় অস্থিরতা। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দাম পার করে সেঞ্চুরি। দাম ঠেকে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
পরবর্তী সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম। অভিযানের পর দাম কমে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬৫ থেকে ৮০ টাকায়। এরপর মিয়ানমার, তুরস্ক, মিসর ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এতে কিছুদিন দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সংকট দেখিয়ে আবারও বাড়ে দাম। তখন প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম দাঁড়ায় ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।
এর পরের সপ্তাহে দাম কমে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় পৌঁছে। মোটামুটি এক সপ্তাহ এই দামেই বিক্রি হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি আবারও দাম বেড়ে পার করে সেঞ্চুরি। কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে আসে। তবে চলতি সপ্তাহে দাম বেড়ে একেবারে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ১৩০ টাকায়।
বুধবার খাতুনগঞ্জে ভারতের নাসিক অঞ্চলের পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়, সাউথ অঞ্চলের ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১০৮ টাকায়। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন সমকালকে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করার বেশকিছু প্রমাণ আমরা পেয়েছি। পেঁয়াজের বাজার যাতে কেউ অস্থির করতে না পারে সেজন্য কারসাজিতে জড়িতদের নজরদারিতে রেখেছে জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা। প্রয়োজনে জোরদার করা হবে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম। তবে চট্টগ্রামের যে আট ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করেন, তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আমদানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমে আসবে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জের আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক। তারা খাতুনগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে কমিশনে পেঁয়াজ না দিয়ে স্থলবন্দরগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছেন। এ জন্য স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে।
পেঁয়াজের এমন দামে উদ্বেগ জানিয়ে ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোকে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি করা ব্যবসায়ীদের সার্বিক বিষয় মনিটর করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনিয়মে জড়িতদের জরিমানার পাশাপাশি আমরা সতর্ক করেছি। তবে পরবর্তী সময়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মোটা অংকের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোপাল বাণিজ্য ভাণ্ডারের বলাই কুমার পোদ্দার বলেন, ভারতের নাসিক ও সাউথ অঞ্চলই এখানকার পেঁয়াজের জোগান দেয়। কিন্তু এই দুই এলাকা থেকে প্রতিদিন হাতেগোনা মাত্র কয়েক ট্রাক পেঁয়াজ বাজারে আসছে। আমদানি স্বাভাবিক না হলে দাম কমবে না।
এদিকে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে খাদ্য তালিকা থেকে পেঁয়াজ বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় 'পেঁয়াজ ন খাইয়্যুম; পেঁয়াজ ন কিন্নুম' (পেঁয়াজ খাব না; কিনবও না) শীর্ষক ব্যতিক্রমী গণপ্রচারণা চালিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন। সাধারণ মানুষকে নিয়ে ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারপত্রও বিতরণ করেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই