জগাখিচুড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে ভোটবিপ্লব হবে -ওবায়দুল কাদের

চাঁপাই প্রতিদিন ডেস্কঃ শনিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সস্মেলনে বক্তব্য দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের-সমকাল

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে সব শঙ্কা কেটে যেতে শুরু করেছে। অনুকূল ও উৎসবমুখর পরিবেশে এখন ভোট দেওয়ার পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জগাখিচুড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে ভোটবিপ্লব হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। দেশি-বিদেশি যারা উদ্বিগ্ন হচ্ছেন, তাদের সবাইকে বলতে চাই- এবারের নির্বাচন খুব সুন্দর হবে। অনুকূল পরিবেশে জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারবে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ হবে না। নির্বাচন কমিশনকে যে ধরনের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন, শেখ হাসিনার সরকার সব ধরনের সহায়তা করছে।

উন্নত গণতান্ত্রিক বিশ্বে বিএনপি ক্রমেই বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তো বিএনপির বন্ধুত্ব এখনও অটুট। একেবারে বন্ধুহীন হয়ে পড়বে- এটা এ মুহূর্তে বলছি না। তবে উন্নত গণতান্ত্রিক বিশ্বে তারা ক্রমেই বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উত্থাপিত একটি বিলে বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মীয় দলগুলোর সহিংসতার শঙ্কা প্রকাশ করে এসব দল ও গোষ্ঠীকে কোনো ধরনের সহায়তা না করার জন্য এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব হতাশা প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, অন্যায় আর অসত্যের সঙ্গে কেউ থাকে না। বিএনপি অনেক দেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। লাখ লাখ ডলার খরচ করেও যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া পাচ্ছে না। বিএনপি অগণতান্ত্রিক আচরণ করতে থাকবে, আর অন্যরা (বিদেশি রাষ্ট্র) সমর্থন করতে থাকবে- এটা হয় না।

তিনি বলেন, হাউস অব কমন্স ও কংগ্রেসের প্রতিবেদন নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে নয়, এ দেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে কাজ করবে। তবে জামায়াত নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। নির্বাচনের আর এক মাসও হাতে নেই। এখন জামায়াত নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটি সরকারের হাতে নেই। আদালতও এ সময়ে এটি করতে পারবেন বলে মনে হয় না। তবে আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারেন।

জামায়াতের অনেককেই বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াত এবং বিএনপির নীতি-আদর্শ একই। আগে মনে করা হতো কৌশলগত বিষয়ে তারা একসঙ্গে আছে। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। আমরা জাতীয় পার্টির সঙ্গে কৌশলগত জোট করেছি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক কৌশলগত নয়। তাদেরটা একেবারেই আদর্শিক জোট। বিএনপি সভা-সমাবেশ ডাকলে ওটার মূল হয়ে যায় জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
   

কোন মন্তব্য নেই

sndr থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.