দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতরা দেশের উন্নতি করতে পারে না :প্রধানমন্ত্রী


চাঁপাই প্রতিদিন ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী
শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা হত্যা, সন্ত্রাস ও
দুর্নীতির সাথে জড়িত, তারা কখনোই দেশের
উন্নতি করতে পারে না। অনেক বাধা অতিক্রম
করে দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি
পেয়েছে। এ সম্মান ও অগ্রযাত্রা যেন বজায়
থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সবাইকে কাজ
করতে হবে। সমাজ বিনির্মাণে ও মানুষের
জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা
করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে লায়ন্স
ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল’র লায়ন লিও
মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,
মানুষের সেবা করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড়
কথা। মানুষের জন্য সেবা করা, মানুষের পাশে
দাঁড়ানো এর চেয়ে বড় কাজ আর কি হতে
পারে। আমি আমার জীবনটাকে উত্সর্গ করেছি
বাংলার জনগণের জন্য। এখানে আমার নিজের
চাওয়া-পাওয়ার কোনো কিছু নেই। আর বাবা-
মা, ভাই সবই হারিয়েছি, হারাবারও কিছু নেই।
লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের নবনির্বাচিত
‘আন্তর্জাতিক পরিচালক’ লায়ন কাজী আকরাম
উদ্দিন আহমদের সংবর্ধনা উপলক্ষে লায়ন ও
লিওদের এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রথমেই সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে ফুলেল
শুভেচ্ছা জানান লায়নরা। মানবতার সেবায়
বিশ্বে প্রশংসিত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে
অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একটা জিনিসই চাই, যে
দেশকে আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে
গেছেন, যে স্বপ্নটা তার ছিল যে বাংলাদেশ
হবে ক্ষুধা মুক্ত দারিদ্র্য মুক্ত উন্নত
বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশকে সেভাবে উন্নত
সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আর
সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। সমৃদ্ধ
সোনার বাংলা গড়তে সকলের সহযোগিতা
কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই
সকলে এক সঙ্গে কাজ করে এ বাংলাদেশকে
উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে
তুলবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট সাতগুণ বৃদ্ধি
পেয়েছে। এ বাজেট আগে করতে গেলে
বিদেশিদের কাছে হাত পাততে হতো।
আল্লাহর রহমতে এখন আর হাত পাততে হয় না।
বাজেটের ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে আমরা
করে থাকি। আগে আমাদের উন্নয়ন বাজেট যা
হয়তো ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা ছিল। এখন ১
লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট
আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে
উন্নীত হয়েছি এটাকে আমাদের ধরে রাখতে
হবে।
দেশের উন্নয়নে নেয়া পরিকল্পনার কথা তুলে
ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশকে
আমরা সর্বক্ষেত্রে উন্নত করতে চাই,
স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। দেশের মানুষ যাতে
আরো উন্নত জীবন পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই
আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশে আশ্রয়
নেয়া জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের
রোহিঙ্গা নাগরিকদের কথা তুলে ধরে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের ওপর একটা
বোঝা এসেছে, মিয়ানমারের শরণার্থী। প্রায়
১১ লাখ শরণার্থী আজকে আমাদের দেশে
আশ্রয় নিয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয়
নেয়া আমাদের শরণার্থীদের কথা যখন স্মরণ
করেছি তখন তাদের আশ্রয় না দিয়ে পারিনি।
তিনি বলেন, আমার ছোট বোন রেহানা এখানে
ছিল; সে আমাকে বললো ১৬ কোটি মানুষকে
ভাত খাওয়াও তুমি। আর এই যে নির্যাতিত
মানুষগুলো, একাত্তরে আমাদের বাঙালিরা
যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী
দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলাম এরাও ঠিক একই
রকম নির্যাতনের শিকার। আজকে তাদের তুমি
খাওয়াতে পারবে না? আমি বললাম নিশ্চয়ই
পারবো, প্রয়োজনে নিজেদের খাবার ভাগ
করে খাবো। রোহিঙ্গা সংকটে কূটনৈতিক
সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
আজকে তাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি।
পাশাপাশি আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য এটুকুই
আমরা প্রতিবেশী দেশের সাথে ঝগড়া
করিনি, তাদের সাথে আলোচনা করেছি।
আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি সই করেছি। তারা
রাজি হয়েছে নিয়ে যাবে, যদিও এখনো নিয়ে
যাওয়া শুরু করেনি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কাউন্সিল
চেয়ারপারসন লায়ন মোঃ আমিনুল ইসলাম
লিটন এমজেএফ। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন
সাবেক আন্তর্জাতিক পরিচালক শেখ কবীর
হোসেন। গত ৩ জুলাই আমেরিকার লাস
ভেগাসে বিশ্বের সর্ববৃহত্ স্বেচ্ছাসেবী
সংগঠন লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল’র ১০১তম
আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে
২১০টি দেশের ডেলিগেটদের ভোটে লায়ন
কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ (পিএমজেএফ)
আন্তর্জাতিক পরিচালক নির্বাচিত হন।

কোন মন্তব্য নেই

sndr থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.