আইন নিজের গতিতে চলবে : প্রধানমন্ত্রী- চাঁপাই প্রতিদিন


চাঁপাই প্রতিদিন ডেস্কঃ আইনের নিজস্ব গতিতে চলবে বলে
জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার
গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ল’
উইল টেক ইটস ওউন কোর্স। আর কিছু
বললে তো বলবেন, বেশি বলি।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নে একথা বলার পাশাপাশি
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু
সম্প্রদায় থেকে বিচারপতি সিনহাকে
বিচারাঙ্গনের সর্বোচ্চ পদে নিলেও তিনি তার
‘মান রাখতে’ পারেননি।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে ফেরা
প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনের দিনই
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির
অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরুর
কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায়
নিয়ে ক্ষমতাসীনদের রোষের মুখে থাকা
বিচারপতি সিনহা গত বছরে অক্টোবরে ছুটি
নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে
দেন।
এক বছরের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রে বসে একটি বই
প্রকাশ করে তিনি নতুন করে আলোচনায়
এসেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন,
সরকার তাকে ‘পদত্যাগে বাধ্য করে
নির্বাসনে’ পাঠিয়েছে। বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে
বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ
পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট
১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের
পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সিনহার বই
প্রকাশের পর তার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার
বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে
বাড়ি কেনার একটি অভিযোগের অনুসন্ধানে
নামার কথা জানায় দুদক।
এরপর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা গত ২৭
সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় বিচারপতি সিনহার
বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের
অভিযোগ এনে মামলা করেন। প্রধান বিচারপতি
থাকাকালে সিনহা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন
এবং খাস কামরায় ডেকে সোয়া তিন কোটি টাকা
উৎকোচ দাবি করেছিলেন বলে মামলায়
অভিযোগ করেছেন নাজমুল হুদা।
সাংবাদিকরা উদ্বিগ্ন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,
সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের
অপপ্রয়োগের আশঙ্কায় সাংবাদিকদের
উদ্বেগের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা বলেছেন, ‘আমি এখানে স্পষ্ট বলব,
যে সাংবাদিকরা মনে করে তারা কোনো
অন্যায় কাজ বা কারও বিরুদ্ধে অপবাদ বা
কোনো মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবে না
তাদের উদ্বেগ হওয়ার কোনো কিছু নাই।'
তিনি বলেন, ‘মিথ্যা সংবাদের কারণে কোনো
সংসদ সদস্য এলাকায় অসম্মানিত হলে, সেটার
কী হবে? সাংবাদিকরা উদ্বিগ্ন বুঝলাম, কিন্তু
আমাদের উদ্বেগটা কে দেখবে?’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংযুক্তি
প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জিনিস ওখানে
ঢুকানো উচিত। আমি মনে করি, যদি কেউ
কারো বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা তথ্য দেয়
তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা তাকে প্রমাণ
করতে হবে যে সেটা সত্য। যদি সত্য প্রমাণ
করতে ব্যর্থ হয়, সেই সাংবাদিক যে লিখবে,
যে মিডিয়া ইলেকট্রনিক্স হোক বা ডিজিটাল
ডিভাইস হোক বা যে এটা প্রকাশ করবে
তাদের সবাইকে শাস্তি পেতে হবে এবং যার
বিরুদ্ধে লিখবে তার জন্য তাকে ক্ষতিপূরণ
দিতে হবে যেটা ইংল্যান্ডে আছে।’
তিনি বলেন, বিবিসি একজন সংসদ সদস্যের
বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছিল। প্রমাণ
হওয়ার পর সবাইকে রিজাইন করতে হয়েছে।
কিন্তু যার বিরুদ্ধে ওই সংবাদ প্রকাশ করা হলো,
তিনি তো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েই
গেলেন। কিন্তু যে প্রকাশ করল, তার তো
কিছু হলো না। তার যে সম্মানটা গেল, ক্ষতি
হলো, তার ক্ষতিপূরণ হবে কীভাবে? পদ্মা
সেতু নিয়ে অনেকের অনেক কথা মিথ্যা
প্রমাণিত হলো। কিন্তু আমাদের যে ক্ষতিটা
হলো, তার কী হবে?
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কারও যদি
অপরাধী মন না থাকে, ভবিষ্যতে অপরাধের
পরিকল্পনা না থাকে, তার উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই।
আগে তো সমন জারি করা হতো না, সরাসরি
গ্রেফতার করা হতো।
তিনি আরও বলেন, ‘মিটিং-টিটিংয়ে যেসব
মানুষদের দেখলাম, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ারই
কথা। তারা তো ফাইল নিয়ে রেডি হয়েছে
আমাদের বিরুদ্ধে লিখবে-সরকার এই করেনি,
ওই করেনি। আপনাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই।
অন্তত আমি থাকতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে কওমি
শিক্ষার স্বীকৃতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
বলেন,কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি প্রসঙ্গে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কওমি
মাদরাসার ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ ছিল না।
তারা কি করতো কোথায় যেত কোনো
ঠিকানা ছিল না। আমি তাদের জন্য ভবিষ্যৎ ঠিকানা
করে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী আরেক প্রশ্নের জবাবে
বলেন, আমার কোনো শত্রু ছিল না। তবে
হ্যাঁ ওই হেফাজতের ঘটনার রাতের আগে
খালেদা জিয়া সবাইকে আহ্বান জানালেন আপনারা
সবাই ঢাকা চলে আসেন। আমার মতো চেষ্টা
করেছি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য। ওই রকম
পরিস্থিতি যেন বাংলাদেশে না ঘটে। খালেদা
জিয়া তাকে ওপেন সমর্থন দিয়েছিলেন,
জামায়াত আল্লামা শফীকে সমর্থন দিয়েছিল।
তিনি বলেন, ওই রাতে মতিঝিল শাপলা চত্বরসহ
মানুষ যে টেনশনে ছিল তাদের তো
টেনশনমুক্ত করেছি। এজন্য আমি তো
ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সে সময় অনেকে
বলেছে আমি তো ধর্মই বিশ্বাস করি না। এ
রকম একটা ভাবনা অনেকের মধ্যে ছিল।
মাদরাসা শিক্ষার ব্যাপারে বলবো যে, ওখানে
লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে।
তাদের কোনো স্বীকৃতি ছিল না। তারা
নিজেরা নিজেদের মতো করে জীবন
যাপন করতো।
আপনারা যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন,
উপমহাদেশে শিক্ষার যাত্রা শুরু হয় মাদরাসা
দিয়ে। হিন্দু ধর্মের জন্য টং থেকে। কাজেই
এটাকে একবারে বাদ দেয়া যাবে না। কারণ ১৪
থেকে ১৫ লাখ ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া
শিখছে। তাদের জন্য ভবিষ্যৎ ঠিকানা করে
দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের
অধিবেশনের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের রানি
ম্যাক্সিমা, এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি
কালজুলেইদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেইওর সঙ্গে
দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তিনি মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া
সংবর্ধনা সভায়ও যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, সাইবার নিরাপত্তা,
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী
শিক্ষা এবং বৈশ্বিক মাদকদ্রব্য সমস্যা নিয়ে
কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ
দেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বার্তা
সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রদত্ত
সম্মানজনক ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট
অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন। মিয়ানমার থেকে
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা
নাগরিককে আশ্রয়দানের মাধ্যমে মানবিকতার
উদাহরণ সৃষ্টি করায় তাকে এই পদকে ভূষিত করা
হয়। পাশাপাশি দূরদৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট
মোকাবিলার জন্য গ্লোবাল হোপ
কোয়ালিশন-এর পরিচালনা পর্ষদ তাকে ‘২০১৮
স্পেশাল রিকগনাইজেশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং
লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করে।

কোন মন্তব্য নেই

sndr থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.