সীমান্তে শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিকস্তরে বৈঠকে ভারত-চিনের
পশ্চিম হিমালয়ে সীমান্ত সংঘাত নিয়ে ফের একবার আলোচনায় বসছে ভারত-চিন। সেনা সরানোর কাজে কিছু মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সেই বিষয়ে শুক্রবার ফের কূটনৈতিকস্তরে আলোচনায় বসছে দুই দেশ।
একমাস আগে যেখানে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিগ হয়েছেন সেখানকার সমস্যার সমাধান করতেই ফের আরেকবার বৈঠকে বসবে ভারত-চিন। গালওয়ান সংঘর্ষ ইন্দো-চিন সীমান্ত সংঘাতের ইতিহাসে জঘন্যতম ঘটনা বলেই চিহ্নিত হয়েছে।
গালওয়ানে সংঘর্ষের পর থেকে একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে। শান্তি ফেরাতে এবং সেনা সরানোর জন্যই মূলত আলোচনায় বসেছে দুই শক্তিশালী দুই দেশ। তবে এখনও সেখানে সেনা মোতায়েন করছে চিন।
প্রথমধাপে ফ্রন্টলাইন অবস্থান থেকে সেনা সরানোর কাজ হবে। পরবর্তীস্তরে অতিরিক্ত সেনা এবং সামরিক শক্তি, অস্ত্রসস্ত্র সরিয়ে নেবে চিন।
শুক্রবার ভার্চুয়ালি ভারত-চিনের তরফে এই আলোচনা হবে। কিভাবে সম্পূর্ণ হবে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাতের ইস্যুগুলিতে সহযোগিতা বিষয়তি নিয়ে আলোচনা করবে এশিয়ার নিউক্লিয়ার শক্তিধর দুই দেশ।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, সীমান্তে শান্তি রক্ষা বা লাইন-অফ-অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে শান্তিরক্ষার বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক।
চিনকে প্যাঁচে ফেলতে কেন্দ্রের তৎপরতা জারি। এবার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বাণিজ্যে কড়া বিধিনিষেধ জারি করল ভারত। সব ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ছাড়পত্র মিললে তবেই ব্যবসায়িক কারণে দেশের সীমান্ত পথ দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চালাতে পারবে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই মর্মে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
লাদাখে চিনা আগ্রাসনের পর থেকেই দেশজুড়ে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক জোরালো হয়েছে। ইতিমধ্যেই চিনা নির্ভরতা কমাতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতে ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে চিনা সংস্থাগুলির সঙ্গে বরাত বাতিল করা হয়েছে। আগামী দিনেও যাতে চিনা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এড়ানো যায় সেব্যাপারেও রীতিমতো তৎপরতা শুরু করেছে ভারত।
ভারত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয় কয়েক বার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু চিন সেই কথাকে মান্যতা দিচ্ছে না। একাধিক চুক্তিও হয়েচে। তারও কোনও ফল চিনের আচরণে দেখা যাচ্ছে না। এবার চরম সতর্কতা ঘোষণা করতে চলেছে ভারত। এদিকে বৃহস্পতিবারই জানা গিয়েছে লাদাখ জুড়ে শক্তি বৃদ্ধি করছে ভারত। চিন সেনার মোকাবিলা করতে বায়ুসেনার হাতে আসছে হ্যামার মিসাইল।
এতে ভারতের বায়ুসেনার শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এই হ্যামার মিসাইল যে কোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। এর রেঞ্জ প্রায় ৬০-৭০ কিমি। সেনাবাহিনীকে দেওয়া বিশেষ জরুরি ক্ষমতার আওতায় এই হ্যামার মিসাইলের আমদানি করা হচ্ছে ফ্রান্স থেকে।
সরকারি সূত্রের খবর হ্যামার মিসাইলের বরাত দেওয়া হয়েছিল ফ্রান্সকে। তবে চিনের সঙ্গে সংগাতের আবহে তার দ্রুত আমদানি করা হচ্ছে। মূলত রাফায়েল কমব্যাট ফোর্সকে শক্তি যোগাতেই এই হ্যামার মিসাইলের আগমন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সব দিক থেকেই তৈরি ভারত।


কোন মন্তব্য নেই