পাবনায় বন্যার পানি বৃদ্ধিতে দুর্ভোগে মানুষ - চাঁপাই প্রতিদিন২৪
উজানের ঢল আর টানা বর্ষণে পাবনায় বেড়েছে পদ্মা-যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। পানিবৃদ্ধির পাশাপাশি সুজানগর ও বেড়া উপজেলায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন।
নদীপাড়ে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার জানান, সোমবার সকালে বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধিতে পদ্মা যমুনা ও বড়াল পাড়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আরও অন্তত ২৫টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।
সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দী ইউনিয়নে প্রায় চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি।
সরেজমিনে বেড়া উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নের ঘোপসেলন্দা, হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের মালদাপাড়া, পেঁচাকোলাসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বন্যার পানিতে রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ও ঘরে পানি ঢোকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গ্রামের উঁচু রাস্তায় রাখা হয়েছে গবাদিপশু।
পুরানভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এএম রফিকউল্লাহ বলেন, আমার ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে আটটি ওয়ার্ডই এখন পানির নিচে। দুই হাজার পরিবারের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বন্যাকবলিতদের জন্য এ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া, অষ্টমনিষা, খাঁনমরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে গেছে। বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। তলিয়ে গেছে প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু খামারিরা রয়েছেন বিপাকে। এসব এলাকায় পশুখাদ্য সংকটে পড়েছে।
এদিকে, পদ্মা ও যমুনায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। সুজানগরের রাহিপুর, সাগরকান্দি, বেড়ার রূপপুর, ঘোপ সেলন্দা গ্রামে নদীপাড়ের গ্রামগুলির বাড়িঘর, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পাবনার বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ জানান, ইতোমধ্যে বেড়া এবং সুজানগরে যমুনা ও পদ্মা নদীর বাম তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৩ দিন ধরে বেড়া উপজেলার যমুনার বাম তীরের রাকশা, প্যাঁচাকোলা, চরপ্যাঁচাকোলা, পাইকান্দা, মোহনপুর, নটাখোলা, মধুপুর, ঘোপসিলিন্দা গ্রামে এবং সুজানগর উপজেলার পদ্মার বাম তীরের সাতবাড়িয়া, গুপিনপুর, মাঝপাড়া, রাইপুর, হাটমালিফা, ভুলচন্দপুর, হাশামপুর ও খলিলপুরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাউবো কয়েকটি এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে।
এসব এলাকার নিচু জায়গা বন্যাকবলিত হওয়ায় শত শত বিঘা জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পাবনার বিস্তীর্ণ এলাকা এবার বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই