সংগঠন নিয়ে কঠোর অবস্থানে শেখ হাসিনা


ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদচ্যুত করাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা কঠোর বার্তা হিসেবেই দেখছেন। তাঁরা মনে করছেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনার এই কঠোর অবস্থান নেতাদের লাগামহীন কর্মকাণ্ডে লাগাম টানবে।
গত শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের এই দুই নেতাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরই তাঁরা পদত্যাগ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ওই বৈঠকে দল ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ নেতাকে ইঙ্গিত করে তাঁদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর অবস্থানে তাঁদের মধ্যে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। নেতাদের কেউ কেউ এ সময় বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তাঁদের চোখে-মুখে দেখা দেয় আতঙ্কের ছাপ। কাউকে কাউকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের সাবধান হয়ে যেতে বলেন।
তা না হলে এসব কর্মকাণ্ড তিনি বরদাশত করবেন না বলে হুঁশিয়ার করে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবার তথ্য আমার কাছে আছে। কে কী করে আমি জানি। ’
দলে থাকা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ নেতাদের প্রসঙ্গ আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আলোচনার সময়। বৈঠকের নির্ধারিত দুই নম্বর এজেন্ডা (দলীয় সভানেত্রীর জন্মদিন পালন) নিয়ে আলোচনাকালে দুর্নীতির অভিযোগে অপসারণকৃত দুই ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে শেখ হাসিনা সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কয়েকজন নেতা সম্পর্কে বলেন, ‘এরা আরো খারাপ। ’ তাদের বাড়াবাড়ি আর সহ্য করা হবে না জানিয়ে এখনই লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ছাত্রলীগের দুই নেতাকে পদচ্যুত করার বিষয়টি শনিবার রাত থেকে সারা দেশে মানুষের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। গতকাল রবিবার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের মধ্যে রীতিমতো ‘আতঙ্ক’ ছড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে এই প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর অতি দ্রুত কোনো নেতার শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হলো। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, শোভন ও রাব্বানীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলেও এ ঘটনার প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে—তাঁদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই নাও হতে পারে। সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের ক্ষেত্রে অনুরূপ সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি জানান, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত সর্বস্তরের নেতাকর্মীর কাছে একটি সতর্কবার্তা। যাঁরা রাজনীতি করতে চান, তাঁদের সাবধান হওয়ার এখনই সময়। এটা তাঁরা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন। এর ফলে দলে একটা ইতিবাচক অবস্থা তৈরি হবে।


কোন মন্তব্য নেই

sndr থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.