লাল কালিতে ‘মাদক ব্যবসায়ির বাড়ি’ লিখছে বিজিবি!


৪০০ পিস ইয়াবাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে গত ৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের রবিউল হোসেন। দুই দিন আগে ভাই জুয়েল হোসেন মাদকসহ ধরা পড়ে পুলিশের কাছ থেকে ‘কৌশলে’ ছাড়া পান।

রবিউল হোসেন ও জুয়েল হোসেনের বাবা মো. ফিরোজ মিয়ার মাটির ঘরের দেয়ালে গতকাল সোমবার সকালে ‘ইয়াবা ব্যবসায়ীর বাড়ি’ লিখেছে বিজিবি।
জেলার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রাজপুর গ্রামের মাদক কারবারি মো. জামাল চৌধুরীর বাড়ির সীমানাপ্রাচীরে লিখে দেওয়া হয়েছে ‘মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি’। গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি ৩৬ বোতল ফেনসিডিলসহ বিজিবির হাতে ধরা পড়েন। চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রওশন চৌধুরীর ছেলে জামাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও একটি মাদকের মামলা হয় বলে বিজিবি জানায়।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই দুই বাড়ি ছাড়াও আখাউড়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে ইসহাক মিয়া ও বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল গ্রামের ইনছাব আলী ভাণ্ডারীর বাড়ির দেয়ালে ‘মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি’ লিখে দেওয়া হয়। পরে বিকেলে আখাউড়া উপজেলার আজমপুর কৌড়াতলীর বাবুল মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া ও রামধননগর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে হুমায়ুন মিয়ার বাড়ির দেয়ালে লিখে দেওয়া হয়। বিজয়নগরে বিজিবি সদস্যরা নিজেরাই এবং আখাউড়ায় আর্টিস্টম্যান রাখাল দাসকে দিয়ে এসব লেখেন।

বিজিবির সিঙ্গারবিল কম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আজিজুর রহমান ও আজমপুর ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুখলেছুর রহমান এ কাজের তদারকি করেন। এ সময় তাঁরা এলাকার মানুষকে মাদক সম্পর্কে সচেতন হতে আহ্বান জানান।


পাশাপাশি এসব দেয়াল লিখন যেন কেউ না মোছে সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘এ উদ্যোগের ফলে মাদক কারবারিরা এখন আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। ’

বিজিবি ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কবির জানান, বিজিবির হাতে ধরা পড়া চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বাড়িতে এভাবে লিখে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ মাদক নির্মূলে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কোন মন্তব্য নেই

sndr থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.